আর মাত্র তিন দিন বাকি মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এ টুর্নামেন্ট শুরু এশিয়া কাপ। এর জন্য ভালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার বিশ্বাস এই দল নিয়ে এশিয়া কাপে অনেকদূর যাওয়া যাবে। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শনিবার এশিয়া কাপ নিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে তারা

এবারের আসর সামনে রেখে বেশ কয়েকদিন ধরেই মিরপুরে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। আগামীকাল ২৭ আগস্ট শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছাড়বে টাইগাররা।

এর আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ক্যাম্পে অধিনায়ক ছিলেন না, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ততার কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও যোগ দিতে পারেননি অনুশীলনে। যদিও হেড কোচের কণ্ঠে ছিল প্রস্তুতি ঠিকঠাক করতে পারার স্বস্তি। জানিয়েছেন কীভাবে ভাগ করেছিলেন অনুশীলন।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি নিয়ে আমি খুব খুব খুশি। শুরুর দিকে ফিটনেস ও মেডিকেলটা ভালো গিয়েছে। মাঝখানে আমরা স্কিলে উন্নতি নিয়ে সপ্তাহখানেক কাজ করেছি। এরপর সাতদিন ছিল একটু বেশি টেকটিক্যাল ও কার কী দায়িত্ব এ নিয়ে। শেষ পাঁচদিনে ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে কী করতে চায় এসব। ’

‘শেষে এসে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। প্রথমবারে অনেকগুলো দলের সঙ্গে খেলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের জন্য ইন্টেনসিটি ধরে রাখা কঠিন ছিল। কিন্তু শেষ ম্যাচটা খুবই ব্যতিক্রম ছিল, যেখানে খেলোয়াড়রা শেষ বল অবধি লড়াই করেছে যতক্ষণ না আমি তাদের আসতে বলেছি। শেষ হয়েছে প্রায় সাড়ে দশটার দিকে। আমি এটা নিয়ে অনেক খুশি।

এদিকে ওয়ানডে অধিনায়ক হবার পর এবারই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন সাকিব। আগামীকাল তিনি দল নিয়ে দেশ ছাড়বেন এশিয়া কাপের উদ্দেশ্যে। আসন্ন এ টুর্নামেন্ট উপলক্ষে দলের প্রস্তুতি কেমন হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে সাকিব বলেন, ‘কোচ যেটা বলল, খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। আমিও যতদূর কথা বলেছি এবং জেনেছি সবাই খুব ভালো অবস্থায় আছে। দুর্ভাগ্যজনক যে এবাদত আমাদের সাথে যেতে পারছে না, ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। সেই জায়গা থেকে একটু সেটব্যাক। তারপরও বলব যে প্রস্তুতি ও স্কোয়াড আছে, আমরা অনেকদূর যেতে পারব।’

এবারের আসরে সবগুলো ম্যাচেই জয়ের লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন সাকিব। তবে আগেই বড় কোনো লক্ষ্যের জন্য না ছুটে ধাপে ধাপে সামনে এগোনোর কথা জানিয়েছেন তিনি। সাকিব বলেন, ‘আগে কোয়ালিফাই করতে হবে। একটা একটা ম্যাচ করে এগোতে চাই। প্রতিটি ম্যাচ চিন্তা করে ভালো ফলাফলের চেষ্টা করব। যদি সুযোগ থাকে সব ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব।’

এদিকে এশিয়া কাপের জন্য ঘোষীত ১৭ সদস্যের দলে আছেন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী একাধিক সদস্য। তাদের উইনিং মেন্টালিটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘ওরা যেহেতু একটা বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের ভেতর ওই উইনিং মেন্টালিটিটা আছে। সেই মানসিকতাটা এখানেও তারা টেনে নিয়ে আসবে। ড্রেসিং রুমের আবহটাও সেভাবেই গড়ে দেবে, এমনটাই আশা করছি।’

এছাড়া তামিম ইকবালের বদলে দলে সুযোগ পাওয়া তরুণ তানজিদ তামিমকে নিয়ে সাকিব বলেন, ‘তানজিদ তামিমের কাছে আমার চাওয়া একটাই, ও এতদিন যেভাবে খেলে এসেছে, সেভাবেই যেন খেলে। ও যেখানেই খেলেছে, পারফর্ম করেছে, সেটাই যেন ধরে রাখে এখনও। এই দুটো ম্যাচে পারফর্ম করলেই তার ক্যারিয়ার দাঁড়িয়ে যাবে, কিংবা এখানে পারফর্ম করতে না পারলেই যে সব শেষ, বিষয়টা এমন নয়। আমি চাই ও পারফর্ম করুক, যেভাবে শেষ কিছু দিনে করেছে, তেমন।’